ঢাবি’র তিন শিক্ষার্থীর করোনা প্রতিরোধে দারুন উদ্যোগ নিলেন !

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও সচেতনতা নিয়ে দেশব্যাপী সাধারন মানুষের মাঝে এক ধরনের আতঙ্ক, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। ঠিক সে সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অন্নদা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট বিভাগে অধ্যায়নরত তিন শিক্ষার্থী করোনাভাইরাস প্রতিরোধে হাত পরিষ্কার রাখার উপকরণ (হ্যান্ড স্যানিটাইজার) তৈরি করছেন।

তারা অন্নদা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়নের রসায়ন বিভাগের ল্যাব ব্যবহার করে প্রায় দুই হাজার ছোট প্লাস্টিক বোতলে রাসায়নিক মিশ্রিত পানির মাধ্যমে বোতল গুলো প্রস্তত করছেন। তাদের এ কাজে অর্থনৈতিক ভাবে সহযোগিতা করছেন অন্নদা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যায়নরত বায়োকেমিস্ট বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জাহিদ হোসেন বলেন, দেশের ক্রান্তিকালে সকল নাগরিকের এগিয়ে আসা উচিত। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়ে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত। আমাদের হাতে তেমন কাজ নেই। ভাবলাম আমরা যেহেতু বায়োকেমিস্ট বিভাগের শিক্ষার্থী আমাদের হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরী করার পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে। তাই বসে থাকতে চাইনি। আমার অপর দুই সহপাঠী মো. তারিকুল ইসলাম ও আসিফ ইকবালকে নিয়ে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরির পরিকল্পনা করি।

তিনি বলেন, আমাদের এই কাজে উৎসাহ দেন আমাদের প্রাক্তন বিদ্যাপীঠ অন্নদা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদা নাজমিন ম্যাডাম সহ অন্যান্য শিক্ষকরা। আমরা আগামীকাল মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এই হ্যান্ড স্যানিটাইজার দরিদ্র সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপর শিক্ষার্থী মো. তারিকুল ইসলাম জানান, বিপদে মানুষের পাশে থাকার প্রয়াস প্রতিটি সুনাগরিকের থাকা প্রয়োজন। আমরা আমাদের জায়গা থেকে যতটুকু পারছি করছি। আমরা দুই হাজার পিস রাসায়নিক মিশ্রিত হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্লাস্টিক বোতল প্রস্তুত করেছি। আগামীকাল থেকে বিনামূল্যে দুই হাজার সাধারন মানুষের মাঝে বোতলগুলো বিতরণ করা হবে।

অন্নদা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদা নাজমিন জানান, বর্তমানে দেশে করোনাভাইরাস প্রকোপের কারণে দেশের প্রতিটি নাগরিক উদ্বিগ্ন। আমাদের প্রাক্তন ছাত্ররা এই মুহূর্তে কিছু একটা করার আগ্রহ প্রকাশ করলে আমরা তাদের উৎসাহ দেই। তাদের আর্থিক সার্পোট দেই। তাদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। আগামীকাল সে গুলো ফুটপাত সহ সাধারন মানুষের মাঝে বিতরণ করা হবে। এতে সাধারণ মানুষ একটু হলেও উপকার পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *