কন্যা সন্তান হল, মা-বাবার জন্য জান্নাতের নেয়ামত

কন্যাসন্তান আল্লাহর শ্রেষ্ঠ উপহার। তারা মা-বাবার জন্য জান্নাতের দাওয়াতনামা নিয়ে দুনিয়ায়
আসে। তাইতো পবিত্র কোরআনে কন্যাসন্তানের সংবাদকে ‘সুসংবাদ’ বলা হয়েছে। পাশাপাশি
জাহেলি যুগের সেই বর্বর চিন্তার মানুষের সমালোচনা করা হয়েছে, যারা কন্যাসন্তানের খবর সুসংবাদ হিসেবে পেলে মন খা’রাপ করত।পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘তাদের কাউকে যখন কন্যাসন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখমণ্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে অসহনীয় মনোস্তাপে ক্লিষ্ট হয়।তাকে যে সুসংবাদ দেওয়া হয়, তার গ্লানি হেতু সে নিজ সম্প্রদায় হতে আত্মগো*** করে;সে চিন্তা করে যে হীনতা সত্ত্বেও সে তাকে রেখে দেবে, না মাটিতে পুঁতে দেবে। লক্ষ করো, সে কত নিকৃষ্ট সিদ্ধান্ত স্থির করেছিল।(সুরা : নাহল, আয়াত : ৫৮-৫৯) রাসুলুল্লাহ (সা.) কন্যাসন্তান লালন-পালনকারীর জন্য তিনটি পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন—এক. জাহান্নাম থেকে মুক্তি, দুই. জান্নাতে প্রবেশের নিশ্চয়তা এবং তিন. জান্নাতে রাসুল (সা.)-এর সঙ্গী হওয়ার সৌভাগ্য।তাই মহান আল্লাহ কাউকে কন্যাসন্তান উপহার দিলে সন্তুষ্ট চিত্তে তাদের লালন-পালন করা আবশ্যক। কেননা তারা জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায়। হ’জরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তিকে কন্যাসন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং সে ধৈর্যের সঙ্গে তা সম্পাদন করেছে, সেই কন্যাসন্তান তার জন্য জাহান্নাম থেকে আড় (প্রতিবন্ধক) হবে। (তিরমিজি, হাদিস : ১৯১৩)অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) কন্যাসন্তানের লালন-পালনের বিষয়ে বলেছেন, যে ব্যক্তির তিনটি কন্যাসন্তান বা তিনজন বোন আছে, আর সে তাদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করেছে,তাদের নিজের জন্য অসম্মানের কারণ মনে করেনি, সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে। (তিরমিজি, হাদিস : ১৯১২)উপরোক্ত হাদিস থেকে বোঝা যায়, জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাতে প্রবেশের ব্যাপারে কন্যাসন্তানের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। উপহারের ধারাবাহিকতা এখানেই শেষ নয়। উত্তম’রূপে কন্যাসন্তান লালন-পালনের মাধ্যমে জান্নাতে প্রিয় নবী (সা.)-এর সান্নিধ্য পাওয়া যায়।হ’জরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি দুজন কন্যাসন্তানকে লালন-পালন ও দেখাশোনা করল (বিয়ের সময় হলে ভালো পাত্রের কাছে বিয়ে দিল) সে এবং আমি জান্নাতে এরূপ একসঙ্গে প্রবেশ করব, যেরূপ এই দুটি আঙুল (এ কথা বলার সময় তিনি নিজের দুই আঙুল মিলিয়ে দেখালেন)। (তিরমিজি, হাদিস : ১৯১৪)-সূত্র: অনলাইন।

দেরি করে ঘুমাতে নিষেধ করেছেন মহানবী (সা.)

রাতে জলদি ঘুমাতে যাওয়া আর সকালে জলদি ঘুম থেকে উঠা সুস্বাস্থ্য, সম্পদ আর জ্ঞানের পূর্বশর্ত। বিষয়টি রাসুল (সা.)-এর হাদিসের সঙ্গেও মিলে যায়। আমাদের প্রিয় নবী (সা.)
রাতে দেরি করে ঘুমানো অপছন্দ করতেন। সাহাবায়ে কিরামকে তাগিদ দিতেন এশার পরপরই ঘুমিয়ে যাওয়ার।রাসুলুল্লাহ (সা.) এশার নামাজ এক-তৃতীয়াংশ রাত পরিমাণ দেরি করে পড়া পছন্দ করতেন, আর এশার আগে ঘুমানো এবং এশার পর না ঘুমিয়ে গল্পগুজব করা অপছন্দ করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৯৯)রাতে দেরিতে ঘুমানোয় স্বাস্থ্যঝুঁ’কি, মানুষের সুস্থতার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম। এর জন্য সবচেয়ে উপযোগী সময় হলো রাত। কেননা আল্লাহ তাআলা রাতকে বিশ্রামের উপযোগী করেই বানিয়েছেন। মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আমি তোমাদের বিশ্রামের জন্য নিদ্রা দিয়েছি, তোমাদের জন্য রাত্রিকে করেছি আবরণস্বরূপ আর দিনকে বানিয়েছি তোমাদের কাজের জন্য।’ (সুরা : নাবা, আয়াত : ৯-১১)বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ক্যান্সারবিষয়ক গবেষণা বিভাগ ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সারের তথ্য মতে, যখন সূর্যের আলো থাকে না তখন শরীরকে কাজ করতে বাধ্য করা বা জাগিয়ে রাখা শরীরে মেলাটনিন হরমোন তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করে।

আর এই মেলাটনিনই মানুষের দেহে টিউমারের বৃদ্ধিকে রোধ করে। ফলে তাদের ধারণা, রাত জাগা মানুষদের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁ’কি বেশি। অর্থাৎরাতের ঘুম অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং এটি কোনোভাবেই দিনের বেলায় ঘুমিয়ে পুষিয়ে নেওয়া যায় না।তাই রাতের বেলা গল্পগুজব, সিনেমা, ফেসবুকিংসহ সব অহেতুক কাজ থেকেই বিরত থাকা প্রয়োজন। কারণ রাতে অহেতুক দেরি করে ঘুমানো মানুষকে শেষরাতের ইবাদত ও ফজর নামাজ থেকে যেমন বঞ্চিত করে, তেমনি এটি স্বাস্থ্যের জন্যও মোটেই শুভকর নয়।যুক্তরাজ্যের এক দল গবেষকের মতে, যারা দেরিতে ঘুমায় ও দেরিতে ঘুম থেকে ওঠে, তাদের অকালমৃত্যুঝুঁ’কি বেড়ে যায় যুক্তরাজ্যের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. পিরেঞ্জ লেভি বলেন, রাত জাগার বদ-অভ্যাস যারা গড়ে তুলেছে, তাদের ৯০ শতাংশই মা’নসিক রোগের শি’কার। ৩০ শতাংশে থাকে ডায়াবেটিসে
আ’ক্রা’ন্ত হওয়ার ঝুঁ’কি। এছাড়া স্নায়বিক সমস্যা থেকে শুরু করে অন্ত্রের রোগে আ’ক্রা’ন্ত’ হওয়ার ঝুঁ’কি অনেকাংশে বেড়ে যায়।সকালে দেরিতে ঘুম থেকে উঠার অপকারিতা, যুক্তরাজ্যের সুবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রোনোলজি বিভাগের অধ্যাপক জন রিচার্ডসন বলেন, ‘আমরা দেখেছি, যারা দেরি করে ঘুম থেকে ওঠে তারা নানা ধরনের মানসিক ও শারীরিক জ’টিলতায় ভো’গে। তাদের গড় আয়ু নিয়মিত সকালে উঠা মানুষের চেয়ে সাড়ে ছয় বছর কম।’খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠার উপকারিতা, খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠা সম্পদ ও জ্ঞানের জন্য পূর্বশর্ত। বলা যায় সফলতার চাবিকাঠি। কেননা ভোররাতে বা দিনের শুরুতে সবচেয়ে বেশি কল্যাণ থাকে। শুধু ইবাদত-বন্দেগিই নয়, দুনিয়াবি কাজের জন্যও এটি সবচেয়ে উপযুক্ত ও বরকতময় সময়। রাসুলুল্লাহ (সা.) ভোরবেলার কাজের জন্য বরকতের দোয়া করেছেন।
সখর গামেদি (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুল (সা.) এ দোয়া করেছেন, ‘হে আল্লাহ, আমার উম্মতের জন্য দিনের শুরুকে বরকতময় করুন।’

এ জন্যই রাসুল (সা.) কোনো যু’দ্ধ অ’ভিযা’নে বাহিনী পাঠানোর সময় দিনের শুরুতে পাঠাতেন। বর্ণনাকারী বলেন, সখর (রা.)-ও তার ব্যবসায়ী কার্যক্রম ভোরবেলা শুরু করতেন। এতে তাঁর ব্যবসায় অনেক উন্নতি হয়। তিনি সীমাহীন প্রাচুর্য লাভ করেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৬০৬)তা ছাড়া এ সময় বান্দার রিজিক বণ্টন হয়। যারা তখন ঘুমিয়ে থাকে তারা সফলতা ও রিজিকের বরকত থেকে বঞ্চিত হয়। প্রিয় নবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘সকালবেলায় রিজিকের অন্বেষণ করো! কেননা সকালবেলা বরকতময় ও সফলতা অর্জনের জন্য উপযুক্ত সময়।’ (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ, হাদিস : ৬২২০)ফাতেমা বিনতে মুহাম্মদ (সা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসুল (সা.) আমার ঘরে এসে আমাকে ভোরবেলায় ঘুমন্ত অবস্থায় দেখলেন, তখন আমাকে পা দিয়ে নাড়া দিলেন এবং বললেন, মামণি! ওঠো! তোমার রবের পক্ষ থেকে রিজিক গ্রহণ করো! অলসদের দলভুক্ত হয়ো না। কেননা আল্লাহ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত মানুষের মধ্যে রিজিক বণ্টন করে থাকেন। (আত-তারগিব ওয়াত তারহিব, হাদিস : ২৬১৬)
খুব ভোরে উঠা মানুষগুলো সবার থেকে আলাদা ও কর্মদক্ষ হয়ে থাকে। গবেষণায় দেখা যায়, যারা খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠে কিংবা রাতে কম ঘুমায়, অন্যদের তুলনায় তাদের আইকিউ ভালো হয়।টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিক্ষার্থী ভোরবেলায়ই জাগতে পারে, তারা দেরিতে জাগ্রতদের চেয়ে বেশি নম্বর পায়। তাদের জিপিএ অন্যদের তুলনায় বেশি হয়। এই সাফল্যের পেছনে তারা বাড়তি উৎপাদনশীলতা এবং ভালো ঘুম হওয়াকেই কারণ হিসেবে উল্লেখ করে।প্রিয় নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ ওই বান্দার ওপর রহম করুন, যে রাত্রিকালে উঠে নামাজ আদায় করে এবং তার স্ত্রীকেও জাগায় এবং সেও নামাজ আদায় করে। যদি সে (স্ত্রী) নিদ্রার চাপে উঠতে না চায়, তবে সে (ভালোবেসে) তার মুখে পানি ছিটিয়ে দেয়। আল্লাহ ওই নারীর ওপরও রহম করুন, যে রাত্রিতে উঠে নামাজ আদায় করে এবং তার স্বামীকে ঘুম থেকে জাগায় এবং সেও নামাজ আদায় করে। যদি সে ঘুম থেকে উঠতে না চায়, তবে সে (ভালোবেসে) তার মুখে পানি ছিটিয়ে জাগিয়ে তোলে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১৪৫০)

ম’সজিদে নববীতে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মোহাম্ম’দ (সা.)

হ’জ ও ওম’রা পালনকারীদের ম’দিনা আসার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো- নবী করিম (সা.)-
এর রওজা মোবারক জিয়ারত করা, রওজায় সালাম পেশ করা। এই পবিত্র ভূমি ম’দিনার ম’সজিদে নববীতে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মোহাম্ম’দ (সা.)।নবীজি যে ঘরটিতে স্ত্রী’ আয়েশা (রা.) কে নিয়ে বসবাস করতেন সে ঘরটিতে মৃ’ত্যুর পর তাকে দাফন করা হয়। রাসূলের রওজার পাশে ইস’লামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা.) ও ইস’লামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উম’র (রা.)-এর কবর।পাশে আরেকটি কবরের জায়গা খালি। এখানে হযরত ঈসা (আ.)-এর কবর হবে। এ কারণে হ’জপালনের আগে কিংবা পরে হাজিরা ম’দিনা শরিফ আসেন। ম’দিনায় অবস্থানকালে হাজিদের প্রথম এবং প্রধান কর্তব্য হচ্ছে,ম’সজিদে নববিতে হাজিরা দেওয়া এবং সেখানে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা। ম’সজিদে নববিতে এক রাকাত নামাজের সওয়াব পঞ্চাশ হাজার রাকাত নামাজের সমান।এছাড়া ম’সজিদে নববীতে বিরতিহীনভাবে ৪০ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায়ের আলাদা ফজিলত রয়েছে।সুদীর্ঘ ৭০০ বছরেও নবীজির রওজার মূল দরজা খোলা হয়নি। ধ’র্মপ্রা’ণ মু’সল্লিদের আবেগ এতটাই বেশি যে নবীজির রওজার দরজা খোলা থাকলে ধুলোবালিও নিয়ে যেতো। তাই নবীজির রওজা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মক’র্তারা বেশ খানিকটা দূর থেকে রওজা জিয়ারতের সুযোগ দেন।সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী নবীজির রওজা মোবারক নিয়ে নানা অ’পপ্রচার চলছে।

বিভিন্ন দেশে নবীজি ও খলিফাদের ভু’য়া রওজার ছবি দেখিয়ে অ’বৈধ অর্থ রোজগারের অ’পচেষ্টা চলছে।মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ছাড়া আর কারও কাছে মা’থা নত করা উচিত নয় বলে ওই কর্মক’র্তা মন্তব্য করেন।তাছাড়াও রওজা শরীফ সর্ম্পকে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হয়রতরাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি আমা’র ম’সজিদে চল্লিশ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেছে আর কোনো নামাজ কাজা করেনি,সে নিফাক (মোনাফিকি) আর দোজখের আজাব থেকে নাজাত পাবে।হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা শরিফ জিয়ারতের ফজিলত প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতের পর তার রওজা মোবারক জিয়ারতে করলো, সে যেন রাসূলুল্লাহ (সা.) কে জীবদ্দশায় দশন করলো।ম’সজিদে নববিতে প্রবেশের অনেকগুলো দরজা রয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিম পাশে রাসূলের রওজা জিয়ারতের জন্য যে দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে হয়, ওই দরজাকে ‘বাবুস সালাম’ বলা হয়। বাবুস সালাম দিয়ে প্রবেশ করে রাসূলের রওজায় সালাম শেষে ‘বাবুল বাকি’ দিয়ে বের হতে হয়।ম’দিনায় জিয়ারতে হাজীদের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। কারণ ম’দিনায় এসে দুনিয়ায় জীবিত থাকতে জান্নাতে ভ্রমণের সুযোগ মেলে। কারণ নবী করিম (সা.)-এর রওজা শরিফ এবং এর থেকে পশ্চিম দিকে রাসূলে করিম (সা.)-এর মিম্বর পযন্ত স্বল্প পরিসরের স্থানটুকুকে রিয়াজুল জান্নাত বা বেহেশতের বাগিচা বলা হয়।এটি দুনিয়াতে একমাত্র জান্নাতের অংশ। এই স্থানে স্বতন্ত্র রঙয়ের কার্পেট বিছানো থাকে।এই স্থানটুকু স’ম্পর্কে হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমা’র রওজা ও মিম্বরের মধ্যবতী স্থানে বেহেশতের একটি বাগিচা বিদ্যমান।এখানে প্রবেশকরা মানে জান্নাতে প্রবেশ করা।বস্তুত দুনিয়ার সব কবরের মধ্যে সর্বোত্তম ও সবচেয়ে বেশি জিয়ারতের উপযুক্ত স্থান হলো- রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা মোবারক। তাই এর উদ্দেশে সফর করা উত্তম। এ কথার ওপর পূর্বাপর সব উলামায়ে কেরামের ঐকমত্য রয়েছে।

জীবনে ‘ইনশা আল্লাহ’ বলার গুরুত্ব ও তাৎপর্য

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা মানবজাতীকে আশরাফুল-মাখলুকাত হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। বিবেক-বুদ্ধি, ইচ্ছা শক্তি এবং পথ চলার জন্য দিয়েছেন স্বাধীনতা। কিন্তু আল্লাহর
ইচ্ছার বাইরে মানবজাতি কোনো কাজ করতে পারে না। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,
অর্থ: ‘তোমরা ইচ্ছা পোষণ করতে পার না, যদি জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ ইচ্ছা না করেন ‘ (সূরা: তাকভীর, আয়াত: ২৯)।যেহেতু বান্দা আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে কোনো কাজ করতে পারে না, তাই তার উচিত প্রতিটি কাজ সম্পাদনের সংকল্প করার পূর্বে‘ইনশা আল্লাহ’ বলা।‘ইনশা আল্লাহ’ এর অর্থ: বাক্যটি তিনটি শব্দ দ্বারা গঠিত। ‘ইন’ অর্থ: যদি, ‘শা’ অর্থ: ইচ্ছা করেন, ‘আল্লাহ’ অর্থ: আল্লাহ অর্থাৎ: যদি আল্লাহ চান। আরবি ব্যাকরণে
বাক্যটি শর্তবাচব বাক্য। যার পরে বক্তার ইচ্ছাকৃত কাজটি উহ্য আছে।

যেমন: কোনো ব্যক্তি হজ করার ইচ্ছা করে বলল, ‘ইনশা আল্লাহ’ অর্থাৎ যদি আল্লাহ চান তবে আমি হজ করবো। পবিত্র কোরআনে এসেছে,অর্থ: ‘ইনশা আল্লাহ (আল্লাহ চাহে তো) আমরা অবশ্যই সঠিক পথের দিশা পাব।’ (সূরা: বাকারাহ, আয়াত: ৭০)।‘ইনশা আল্লাহ’ এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য: ইসলামী শরীয়তে ভবিষ্যতে কোনো কাজ বাস্তবায়নের দৃঢ় ইচ্ছা ব্যক্ত করার সময় ‘ইনশা আল্লাহ’ বলার গুরুত্ব অপরিসীম। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন,অর্থ: (হে নবী) কখনোই তুমি কোনো বিষয়ে এ কথা বলো না যে, আমি এটা আগামীকাল করবো, যতক্ষণ না ‘ইনশা আল্লাহ’ বল।’(সূরা: কাহফ, আয়াত: ২৩,২৪)।‘ইনশা আল্লাহ’ বলার স্থান ও সময়: বাক্যটি শর্তবোধক হওয়ায় তা ভবিষ্যত কালের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সূরা কাহফের ২৩ নম্বর আয়াতে ব্যবহৃত শব্দের দ্বারা ভবিষ্যৎ বুঝানো হয়েছে।সুতরাং ভবিষ্যৎ কালে কোনো কাজ সম্পাদনের দৃঢ় ইচ্ছা ব্যক্ত করার সময় ‘ইনশা আল্লাহ’ বলতে হবে।গুরুত্ব ও তাৎপর্য: মূলত এই বাক্যটি বলার মাধ্যমে বান্দা তার সব কর্মকে আল্লাহর ইচ্ছার কাছে সমর্পণ ও সোপর্দ করে নিজেকে তাঁর সমীপে দুর্বল হিসেবে উপস্থাপন করে।

আর আল্লাহ তাঁর বান্দাকে এভাবেই বলার নির্দেশ দিয়েছেন।মহান আল্লাহ তায়ালার বাণী,অর্থ: ‘আমি আমার বিষয় আল্লাহর নিকট অর্পণ করছি।’ (সূরা: মু‘মিন,আয়াত: ৪৪)।‘ইনশা আল্লাহ’ না বলার পরিণাম: বান্দার ইচ্ছার বাস্তবায়ন যেহেতু আল্লাহর চাওয়া এবং তাওফিকের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাই ‘ইনশা আল্লাহ’ বলার মাধ্যমে সেই তাওফিক কামনা করা বাঞ্ছণীয়। অন্যথায় তার ইচ্ছায় বাস্তবায়ন অসম্ভব। যার বহু দৃষ্টান্ত কোরআন, সুন্নাহ এবং বাস্তব জীবনে পরিলক্ষিত হয়। এরুপ কিছু ঘটনা সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো-(ক) মক্কার মুশরিকরা রাসূল (সা.)-কে আসহাবে কাহফ, রুহ এবং বাদশা যুলকারণাঈন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি ‘ইনশা আল্লাহ’ না বলেই তাদের আগামীকাল জবাব দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। নবী রাসূলদের সামান্য ভুলও বড় হিসেবে দেখা হয়। যার প্রেক্ষিতে ১৫ দিন যাবৎ ওহি আসা বন্ধ থাকে এবং তিনি পরের দিন জবাব দিতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে প্রশ্নের জবাব দিতে ওহি নাজিল হয়। সেই সঙ্গে আল্লাহ তায়ালা রাসূল (সা.)-কে সতর্ক করে দিয়ে বলেন,অর্থ: (হে নবী) কখনো তুমি কোনো বিষয়ে এ কথা বলো না যে, আমি এটা আগামীকাল করবো, যতক্ষণ না ‘ইনশা আল্লাহ’ বলো। (সূরা: কাহফ, আয়াত: ২৩, ২৪)।(খ) সূরা ক্বলামে বর্ণিত বাগানের মালিকদের ঘটনা। তারা মিসিকিনদের ফল না দেয়ার উদ্দেশ্যে বাগানের ফল প্রাতঃকালে আরহণ করবে বলে রাতে কসম করে।

কিন্তু তারা ‘ইনশাআল্লাহ’ বলতে ভুলে যায়। যার কারণে আল্লাহ তায়ালা সেই রাতেই তাদের বাগান ভস্মিভূতকরে দেন এবং সকালে তারা ছাই রুপে দেখতে পায় ‘ (সূরা: ক্বলাম, আয়াত ১৭-৩৩)।(গ) একদা সুলায়মান (আ.) এ মনোভাব ব্যক্ত করলেন যে, রাতে আমি আমার সব স্ত্রী (৯০ কিংবা ১০০ জন) এর স’ঙ্গে মি’লি”ত হবো। যেন প্রত্যেক স্ত্রীর গর্ভ থেকে একটি করে পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহণ করে এবং তারা আল্লাহর পথে ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে জিহাদ করে। কিন্তু এসময় তিনি ‘ইনশা আল্লাহ’ বলতে ভুলে গেলেন। নবীর এ ক্রটি আল্লাহ তায়ালা পছন্দ করলেন না।ফলে মাত্র একজন স্ত্রীর গর্ভ থেকে একটি অপূর্ণাঙ্গ ও মৃ;ত শিশু ভূমিষ্ঠ হলো। আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন, যদি সুলায়মান (আ.) ‘ইনশা আল্লাহ’ বলতেন, তাহলে তিনি যা চেয়েছিলেন তাই হত। (মুক্তাফাকুন আলাই, বুখারী হা: ৬৬৩৭)।(ঘ) ইয়াজুজ মাজুজকে অবরুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে গোটা বিশ্ব শাসনকারী মুসলিম বাদশা যুলকারণাঈন কর্তৃক নির্মিত প্রাচীর তারা প্রতিদিন খনন করতে থাকেন। যখন তারা এটাকে
ভেদ করার কাছাকাছি এসে যায়। তখন তাদের সর্দার বলে, ফিরে চল, কাল সকালে এটাকে সম্পূর্ণ ভেঙ্গে ফেলব। একথা বলে তারা চলে যায়।

কিন্তু আল্লাহ তায়ালা রাতে প্রাচীরকে পূর্বেরন্যায় পূর্ণাঙ্গ করে দেন। তারা প্রতিদিন এভাবে এই প্রাচীর খুঁড়তে থাকে। অবশেষে কিয়ামতেরপূর্ব মূহর্তে আল্লাহ যখন তাদের মুক্তি দিতে চাইবেন, তখন তাদের সর্দার বলবে, আজ চল ‘ইনশা আল্লাহ’ আগামীকাল আমারা এই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলব। ‘ইনশা আল্লাহ’ বলার ফলেগতকাল দেয়ালটি তারা যে অবস্থায় রেখে গিয়েছিল, ফিরে এসে ঠিক সে অবস্থায় পাবে এবং দেয়াল ভেঙ্গে জনপদে ছড়িয়ে পড়বে। (তিরমিযী-৩১৫৩, ইবনে মাজাহ-৪০৮০)।‘ইনশা আল্লাহ’ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত কতিপয় ঘটনা: বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে ‘ইনশা আল্লাহ’ শব্দটি পবিত্র কোরআনে ছয় বার এবং হাদিসে বহু জায়গায় ব্যবহৃত হয়েছে। যা ‘ইনশা আল্লাহ’ বলার দিকে ইঙ্গিত করে।কয়েকটি ঘটনা নিম্নরুপ:(১) বনী ঈসরাইলের জনৈক যুবক চাচার অগাধ সম্পত্তির লাভের আশায় একমাত্র চাচাতবোনকে বিবাহ করে। কিন্তু চাচা সম্পদ প্রদানে রাজি না হওয়ায় গোপনে তাকে হ;;ত্যা করে নিজেই বাদী সেজে মূসা (আ.) এর নিকট মোকাদ্দামা পেশ করে। মূসা (আ.) আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক ফায়সালা দেন যে, তোমরা একটি গাভী জবেহ করে এক টুকরো গোশত দ্বারা মৃতের শরীরে আঘাত কর।

কওমের লোকেরা গাভীর রং, ধরন ও আকৃতি ইত্যাদি সম্পর্কে কয়েক দফা জিজ্ঞাসা করে সর্বশেষ বলল,অর্থ: ‘ইনশা আল্লাহ’ এবার আমরা অবশ্যই সঠিক দিশা পেয়ে যাব।’(সূরা: বাকারাহ, আয়াত ৬৭-৭১)।অতঃপর তারা নির্দেশিত বৈশিষ্টের গাভী পায় এবং তা জবেহ করে হ’’ত্যাকারীকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়।(২) আবুল আম্বিয়া এবং মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) এর জীবনের অন্যতম একটি পরীক্ষা ছিল স্থহস্তে পুত্র কোরবানী করা। স্বপ্নাদেশ অনুসারে তিনি যখন ১৩/ ১৪ বছরেরকলিজার টুকরা পুত্র ইসমাঈলকে নিয়ে বোরবানগাহ মিনায় উপস্থিত হলেন। সেখানে পৌঁছে পিতা পুত্রকে তার স্বপ্নের কথা বর্ণনা করলেন এবং পুত্রের অভিমত জানতে চাইলেন। পুত্র তার অভিমত ব্যক্ত করে বলেন,
অর্থ: ‘হে পিতা! আপনাকে যা নির্দেশ করা হয়েছে তা কার্যকর করুন, ‘ইনশা আল্লাহ’ আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভূক্ত পাবেন।’ (সূরা: সাফফাত, আয়া: ১০২)।

এবার তিন হিন্দু যুবক একসঙ্গে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করলেন !

ইসলাম শিক্ষা দেয় যে আল্লাহ দয়ালু, করুনাময়, এক ও অদ্বিতীয়। ইসলাম মানব জাতিকে
সঠিক পথ দেখায়। ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে, আদম হতে শুরু করে আল্লাহ্ প্রেরিত সকল নবী ইসলামের বাণীই প্রচার করে গেছেন।যুগে যুগে বহু মানুষ ভিন্ন ধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহন করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবার ময়মনসিংহে ৩ হিন্দু যুবক ইসলাম গ্রহন করেছেন।বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিট্রেট সম্মুখে এফিডেবিটের মাধ্যমে হিন্দু থেকে ইসলাম গ্রহণ করেন তিন যুবক। তারা এখন ঢাকার একটিপ্রাইভেট কোম্পানীতে চাকরী করছে। কিছু দিনের মধ্যেই তারা গ্রামে ফিরে ৪০ দিনের চিল্লায় যাবে।ইসলাম গ্রহন করা ঐ তিন যুবক হলেন, উপজেলা রামগোপালপুর ইউনিয়নের পশ্চিম পাড়া গ্রামের অজয় চন্দ্র বর্মণের ছেলে হৃদয় চন্দ্র বর্মণ (১৯) বর্তমান নাম উসমান, দীলিপ চন্দ্র বর্মণের ছেলে প্রদীপ চন্দ্র বর্মণ (২১) বর্তমান নাম উমর ও শশী বর্মণের ছেলে অমল চন্দ্র বর্মণ (১৯) বর্তমান নাম আবু বক্কর।

এই তিন যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বলেন, ইসলাম মুক্তির ও শান্তির ধর্ম। দীর্ঘদিন ধরে ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন বই পড়ে, ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে স্বইচ্ছায় ও স্বজ্ঞানে আদালতের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম করেছি এবং স্থানীয় এক মসজিদের ইমামের সম্মুখে ‘লা-ইলাহা ইল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুল্লাহ (সাঃ) পাঠ করে পবিত্র গ্রন্থ আল কোরআনের উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আল্লাহ তাআলা এই তিন যুবকের মত আরও অনেককে ইসলাম গ্রহন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

মহানবী (সা.) খেজুর ও দুধ দিয়ে সকালের নাস্তা করতেন !

আল্লাহ মহান। তাঁর দয়ার কারনেই এই সুন্দর পৃথিবীতে আমাদের প্রিয় নবী হজরত মোহাম্মদ
(সা.) এর আবির্ভাব ঘটেছিল। মুহাম্মাদ (সা) ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন আরাম ও সুখের জীবন। তিনি যেমন সাহসী ও অকুতোভয় ছিলেন, তেমনি ছিলেন কোমল মনের মানুষ। তাঁর ব্যাক্তিত্বের প্রভাবে ইসলামের বিস্তার হয়েছে। আমাদের নবী (সা.) -এর সকল কাজই আমাদের জন্য আদর্শ। নবী (সা.) এর ঘুম, খাওয়া, হাটা, চলা এই সকল বিষয়ের মাঝেই আমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ। মহানবী হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিদিন সকালে সাতটি খেজুর ও দুধ দিয়ে নাস্তা করতেন। এমনকি তিনি তার নাস্তার এই মেনু কখনো পরিবর্তন করেননি। নবীর (সা.)

সাহাবারা নবীর (সা.) কাছে জানতে চেয়েছিলেন তিনি কেন প্রতিদিন সাতটি খেজুর ও দুধ দিয়ে নাস্তা করেন? তিনি বলেছিলেন, সাতটি খেজুর ও দুধ দিয়ে নাস্তা করা মস্তিষ্কের জন্য ভালো। এরপর সাহাবিরাও সাতটি খেজুর ও দুধ দিয়ে নাস্তা করতেন।এদিকে, বিজ্ঞানীরা গবেষণা করেছেন, কেন নবী (সা.) সাতটি খেজুর ও এক দুধ দিয়ে নাস্তা করেছেন। তারা গবেষণার ফলাফল হিসেবে যেটা পেয়েছেন সেটা হচ্ছে প্রতিদিন সকালে সাতটি খেজুর ও দুধ দিয়ে নাস্তা করলে মানুষের শরীরের হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ও এনজাইমগুলো দ্রুত কাজ করা শুরু করে। এতে করে মানুষের শরীর ভাল থাকে। বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণায় আরো পেয়েছে যে প্রতিদিন সকালে সাতটি খেজুর ও এক কাপ দুধ নিয়ে নাস্তা করলে মানুষের মস্তিষ্কের বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধি পায়। লিভার ভালো থাকে। ত্বক সুন্দর হয়। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতিটি সুন্নতের উপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

শুধু মাত্র প্রতি ওয়াক্ত আজানের ধ্বনিতে ফোটে এই সেই ফুল !

মহান আল্লাহ্‌ তাআলার প্রতিটা হুকুমের পেছনেই কোন না কোন সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে। এই
যেমন আযানের কথাই ধরা যাক। আমরা ছোটবেলা থেকে হাজার হাজারবার আযান শুনে এসেছি, কিন্তু আমরা কি জানি পৃথিবীতে এমন অদ্ভুত এক ফুল আছে যেটি প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আজানের সময় ফুল ফোটে, আবার আজানের শেষ হলে চুপসে যায় ?মধ্যপ্রাচ্যের দেশ আজারবাইজানের এক মুসলিম গ্রামে মোহাম্মদ রহিমের বাগানে সন্ধান পাওয়া যায় অদ্ভুত এক ফুল। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আজানের সময় এই ফুল ফোটে, আবার আজানের শেষ হলে চুপসে যায়। খবর- ইসলামি বার্তার বরাতে জানা যায়, আজানের ধ্বনি যেন ফুলগুলোকে ইবাদতের জন্য

জাগ্রত করছে। প্রতিটি সমুধুর ধ্বনিতে পাপড়িগুলোও ক্রমান্বয়ে প্রস্ফুটিত হয়ে উঠে। ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব এবং এশা প্রত্যেক ওয়াক্তে আজানের সঙ্গে সঙ্গে ফোটে এই অদ্ভুত ফুল। সেকারণেই ফুলটির নাম দেয়া হয়েছে ‘আজান ফুল’।এই ফুলকে অনেকেই ‘ইভিনিং প্রাইমরোজ’ বা ‘সানকাপস’ বা ‘সানড্রপস’ নামে চেনেন। যেটি আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। মুয়াজ্জিনের সুরেলা কন্ঠে যখন আজানের বাণীগুলো উচ্চারিত হয়, তখন এর সঙ্গে ছন্দ মিলিয়ে ফোটে উঠে এই ফুল।

রিজিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ

মহান আল্লাহ পৃথিবীর কাউকে না খাইয়ে রাখেন না। সবল-দুর্বল, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, নারী-পুরুষ, বুদ্ধিমান-বোকা সবাইকে রিজিক দান করেন। রিজিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ।আল্লাহ যদি কারো রিজিক বন্ধ করে দেন, তবে তা চালু করার শক্তি কারো নেই। আল্লাহবলেন- এমন কে আছে যে তোমাদের রিজিক দান করবে, যদি তিনি রিজিক বন্ধ করে দেন? বস্তুত তারা অবাধ্যতা ও সত্য বিমুখতায় অবিচল রয়েছে। (সুরা মুলক, আয়াত-২১)।পবিত্র কোরআনের সূরা সাবার ৩৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘বল, আমার প্রতিপালক তো

তার বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা রিজিক বর্ধিত করেন এবং যার প্রতি ইচ্ছা সীমিত করেন। তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে তিনি তার প্রতিদান দিবেন।তিনিই শ্রেষ্ঠ রিজিকদাতা।’ সূরা সাবার উপরোক্ত আয়াতে যে বিষয়টির ওপর আলোকপাত করাহয়েছে সেটি হলো- আল্লাহ ইচ্ছা করলেই যে কোনো ব্যক্তির রিজিক বাড়িয়ে দিতে পারেন, তেমনি তিনি তা কমিয়ে দিতেও পারেন।

আল্লাহ যেহেতু মানুষকে সম্পদ দেন, সেহেতু মানুষ যদি আল্লাহর নির্দেশিত পথে সে সম্পদ ব্যয় করে তবে তিনি বান্দাকে তার বিনিময় দান করার ব্যাপারেও প্রতিশ্রু’তিবদ্ধ।পবিত্র কোরআনের সূরা আশ-শুরার ২৭ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করা হয়েছে, ‘আল্লাহ তাঁর সববান্দাকে জীবনোপকরণে প্রাচুর্য দিলে তারা পৃথিবীতে অবশ্যই বিপ’র্যয় সৃষ্টি করত, কিন্তু তিনিতার ইচ্ছামতো পরিমাণেই নাজিল করিয়া থাকেন। তিনি তাঁর বান্দাদের সম্যক জানেন ও দেখেন।’

মহানবী (সা.) খেজুর ও দুধ দিয়ে সকালের নাস্তা করতেন !

আল্লাহ মহান। তাঁর দয়ার কারনেই এই সুন্দর পৃথিবীতে আমাদের প্রিয় নবী হজরত মোহাম্মদ
(সা.) এর আবির্ভাব ঘটেছিল। মুহাম্মাদ (সা) ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন আরাম ও সুখের
জীবন। তিনি যেমন সাহসী ও অকুতোভয় ছিলেন, তেমনি ছিলেন কোমল মনের মানুষ। তাঁর ব্যাক্তিত্বের প্রভাবে ইসলামের বিস্তার হয়েছে।আমাদের নবী (সা.) -এর সকল কাজই আমাদের জন্য আদর্শ। নবী (সা.) এর ঘুম, খাওয়া, হাটা, চলা এই সকল বিষয়ের মাঝেই আমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ। মহানবী হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিদিন

সকালে সাতটি খেজুর ও দুধ দিয়ে নাস্তা করতেন। এমনকি তিনি তার নাস্তার এই মেনু কখনো পরিবর্তন করেননি। নবীর (সা.)সাহাবারা নবীর (সা.) কাছে জানতে চেয়েছিলেন তিনি কেন প্রতিদিন সাতটি খেজুর ও দুধ দিয়ে নাস্তা করেন?তিনি বলেছিলেন, সাতটি খেজুর ও দুধ দিয়ে নাস্তা করা মস্তিষ্কের জন্য ভালো। এরপর সাহাবিরাও সাতটি খেজুর ও দুধ দিয়ে নাস্তা করতেন।এদিকে, বিজ্ঞানীরা গবেষণা করেছেন, কেন নবী (সা.) সাতটি খেজুর ও এক দুধ দিয়ে নাস্তা করেছেন। তারা গবেষণার ফলাফল হিসেবে যেটা পেয়েছেন সেটা হচ্ছে প্রতিদিন

সকালে সাতটি খেজুর ও দুধ দিয়ে নাস্তা করলে মানুষের শরীরের হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ও এনজাইমগুলো দ্রুত কাজ করা শুরু করে। এতে করে মানুষের শরীর ভাল থাকে।বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণায় আরো পেয়েছে যে প্রতিদিন সকালে সাতটি খেজুর ও এক কাপ দুধ নিয়ে নাস্তা করলে মানুষের মস্তিষ্কের বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধি পায়। লিভার ভালো থাকে। ত্বক সুন্দর হয়।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতিটি সুন্নতের উপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত খেজুর বাগান মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) খেজুর খুবই পছন্দ করতেন

মুসলমানদের শেষ মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) খেজুর খুবই পছন্দ করতেন। সৌদি
আরবের সর্বত্রই খেজুর গাছ দেখতে পাওয়া যায়। অনুকুল আবহাওয়ার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সবগুলো দেশে প্রচুর খেজুর উৎপাদন হয়। তবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় খেজুর বাগানটির অবস্থান কিন্তু সৌদি আরবে।দেশটির আল-কাসীম শহরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই খেজুর বাগান অবস্থিত। বাগানটির মালিক সালেহ বিন আবদুল আযীয রাজেহী। তার নামানুসারে

খেজুর বাগানটির নামও রাখা হয়েছে ‘রাজেহী বাগান’। প্রায় দুই লাখ গাছ আছে বাগানটিতে। চল্লিশ প্রকারের খেজুর উৎপাদিত হয় সেখানে।আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, এই বাগানের পুরো উৎপাদনই আল্লাহর রাস্তায় ওয়াকফ করেদিয়েছেন আবদুল আযীয রাজেহী। পবিএ মাহে রমজান মাসে পবিত্র মক্কা ও মদীনায় আগত রোজাদারদের ইফতারির সমস্ত খেজুর এই বাগান থেকেই সরবরাহ করা হয় জানা যায়।বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘ওয়াকফ সম্পত্তি’ হিসেবেও এই বাগানকে বিবেচনা করা হয়। এতবড় কলিজার মানুষ এখনো আছে পৃথিবীতে !