মাশরাফি: আল্লাহকে ডাকুন ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ুন

করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ৩৩ জন আক্রা’ন্ত ও ৩ জন মা’রা গেছেন। এমন ‘প’রিস্থিতিতে সবাইকে সত’র্কবার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক ভিডিওবার্তা দিয়েছেন তিনি।

ভিডিও বার্তায় মাশরাফি বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম। আশা করি সবাই ভাল আছেন। যদিও ‘ভাল আছেন’ কথাটা এই মুহূর্তে ঠিক বলা ঠিক কিনা, কারণ সবাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তারপরও কথা বলতে হবে। করোনাভাইরাস, আমরা সবাই জানি। অনেকেই কথা বলছি, সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেখানেই যাবেন দেখবেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে সবাই আ’তঙ্কিত। এবং আতঙ্কিত না হওয়ারও কোনো কারণ নাই। পৃথিবীর সমস্ত বড় বড় দেশগুলো এখন শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবেও বিপর্যস্ত। তারা কোনোভাবেই ট্যাকল দিতে পারছে না।

এখন আমাদের কি করণীয়। আজকে যত বড় বড় দেশগুলো দেখছি, যেভাবে ভেঙে পড়ছে, আমাদের দেশটা তো এমনিতে ছোট, মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। আমাদের যদি এরকম সংকট আসে, আল্লাহ না করুক, কি হতে পারে আমরা সবাই বুঝতে পারছি। এই মুহূর্তে করণীয় অনেক কিছু আছে, যেগুলো আমি মনে করি সবারই করা উচিৎ। এক হচ্ছে, ঘরে বসে আল্লাহকে ডাকা, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া। আল্লাহর কাছে ডাকা যে, আল্লাহ আমাদের রহমত করুন। এই ধরনের দুর্যোগ থেকে আমাদের সহযোগিতা করুন যেন করোনা না হয় এবং সবাই যেন সুস্থ থাকে।’

দ্বিতীয় করণীয় কাজ হিসেবে মাশরাফি বলেন, ‘অবশ্যই অবশ্যই প্রবাসী ভাই-বোনেরা যারা বিদেশে থাকেন, আসছেন দেশে বা যারা বেড়াতে গিয়েছিলেন আর দেশে আসছেন, তাদের কিন্তু অনেক কিছু করার আছে। প্রথম হচ্ছে নিয়ম-কানুনগুলো অবশ্যই মেনে চলা। কোয়ারেন্টাইন এই শব্দটা ব্যবহার করে আমি বলব, গৃহবন্দী থাকা। সেটা পরিবার নিয়ে না, আপনি আলাদা ১৪ দিন থাকা। ১৪ দিন পার হওয়ার পরে যদি আপনি অসুস্থ না হোন তখন আপনার পরিবারকে নিয়ে ঘরে থাকা। যতক্ষণ না পযর্ন্ত চিকিৎসক বা সমাজের উচ্চ-পদস্থরা ঘোষণা না করছেন যে, আমরা নিরাপদ, ততক্ষণ ঘরে থাকা।

রপরে অবশ্যই আমাদের অনেক করণীয় আছে। যেটা হচ্ছে, নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া। ১৫-২০ মিনিট অন্তর অন্তর নিয়মিত পানি পান করা এবং আপনার ঘর, আপনার চারপাশটা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। আমাদের এসব নিয়ম-কানুনগুলো মেনে চলতে হবে। এর থেকে কঠিন পরিস্থিতে যাওয়ার পরে আমরা কিন্তু আর সুযোগ পাবো না। তাই আমাদের উচিৎ এখন থেকেই এই জিনিসটাকে শক্ত হাতে প্রতিহত করা। কারণ এটা একটা রাষ্ট্রীয় সংকট হয়ে যেতে পারে। আমরা কেউ জানিনা আশাপাশে কারা আছে। আমরা যে বের হচ্ছি, কার হাত ধরছি, কি করছি, কেউ জানি না আসলে এ ভাইরাসটা কি নিয়ে পথ চলছে। কারণ এ ভাইরাসটা ১৪ দিন সময় নেবে আপনার বুঝার জন্য। তাই আমার কাছে মনে হয় যে, এটা গভীরভাবে চিন্তা করার ব্যাপার।’

মাশরাফি আরো বলেন, ‘আমরা যেটা গুরুত্ব দিচ্ছি না সেটা যদি আকস্মিকভাবে আমাকে, আপনাকে, আপনার পরিবারকে, পরিবারের কাউকে বা সামাজিকভাবে আঘাত করে সেটা কিন্তু সামাল দেওয়া খুব কঠিন হবে। আমি আগেও বলেছি, ইতালির মতো দেশ, ইংল্যান্ড-স্পেন-চীন বলেন, সবাই কিন্তু হিমশিম খাচ্ছে। সেখানে আমরা কতটুকু পারবো তা ভাবার সময় এসেছে। কারণ দেশটা অনেক ছোট, মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। আমাদের যে করণীয় জিনিসগুলো আছে, আমরা করি। আপনার ঘরের ক্যাপ্টেন কিন্তু এখন আপনি নিজে। আপনি যদি আপনার ঘরের ক্যাপ্টেন্সি ঠিকভাবে করতে পারেন, আমি নিশ্চিত, আমরা কিছুটা হলেও আক্রা’ন্তের সংখ্যা কমাতে পারবো। অন্যথা দুর্যোগ হওয়ার সুযোগ বেশি। তাই আপনাদের কাছে বিনীত অনুরোধ আপনার ঘরে থাকুন। প্লিজ, প্লিজ, প্লিজ…’

আগের চেয়ে দ্রুতগতিতে ছ’ড়িয়ে প’ড়ছে করোনা ভাইরাস:বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

দুনিয়াব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস আগের চেয়ে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান ড. টেড্রস অ্যাডহানম গেব্রেইয়েসুস। সোমবার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেছেন।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১ থেকে ১ লাখে পৌঁছাতে ৬৭ দিন সময় লেগেছে। দ্বিতীয় একলাখ আক্রান্ত হতে সময় লেগেছে ১১ দিন। কিন্তু তৃতীয় একলাখ আক্রান্ত হতে সময় লেগেছে মাত্র ৪ দিন।

জি২০ সম্মেলনে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের একসঙ্গে প্রতিরোধ সরঞ্জাম উৎপাদনে কাজ করার আহ্বান জানাবেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, জি২০ দেশগুলোর ঐক্য আমাদের প্রয়োজন। কারণ বিশ্বের মোট জিডিপির ৮০ শতাংশ এসব দেশের। স্বাস্থ্যকর্মীদের রক্ষাকে যদি আমরা অগ্রাধিকার না দেই তাহলে অনেক মানুষের মৃত্যু হবে। কেননা যারা তাদেরকে সেবা দিয়ে জীবন রক্ষা করতে পারতেন তারাই অসুস্থ থাকবেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব মতে, ২৬ মিলিয়নের বেশি স্বাস্থকর্মী করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেবেন। এর আগ শুক্রবার সংস্থাটির কর্মকর্তারা সতর্কতা উচ্চারণ করে বলেছিলেন, করোনার বিস্তারে মাত্র কয়েক সপ্তাহে বিশ্বের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে নড়বড়ে করে দিতে পারে।

উল্লেখ্য বিশ্বে করোনাভাইরাসে মৃত মানুষের সংখ্যা ১৪ হাজার ছাড়িয়েছে। গত ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশে এই ভাইরাসের আক্রমণ দেখা যায়। করোনাভাইরাসের নতুন কেন্দ্রস্থল ইউরোপ। এই ভাইরাসে টালমাটাল ইতালি। চীনের বাইরে করোনা ১৩ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে ১১ মার্চ পৃথিবীব্যাপী মহামারি ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারিতে এ পর্যন্ত বিশ্বের ১৯২ টি দেশ ও অঞ্চলে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৫০ হাজার ৬৪৬ জন। মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৫ হাজার ৩১৭ জনের। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৩৪৫ জন।

২৪ ঘণ্টায় ৬০২ জন সহ ইতালিতে মোট ৬০৭৮ জনের মৃত্যু

করোনাভাইরাসে ইতালিতে ২৪ ঘণ্টায় মৃতের সংখ্যা ও আক্রান্তের পরিমাণ আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। করোনায় সোমবার আরও ৬০২ জন মারা গেছেন, যা রোববার ছিল ৬৫১ জন। এনিয়ে দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা ৬ হাজার ৭৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

নতুন করে ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ৪ হাজার ৭৯০ জন। যা এর আগে ছিল ৫ হাজার ৫৬০ জন। দেশটিতে মোট আক্রান্ত হয়েছে ৬৩ হাজার ৯২৮ জন। ইতালির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানায় মেট্রো ডট ইউকে।

এদিকে করোনার থাবা থেকে সুস্থ হিয়েছে ইতালির ৭ হাজার ৪৩২ জন নাগরিক। এদিকে এমন ভয়াবহ মহামারিতে রাজধানী রোম নিরব নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। রেড জোন ঘোষণার পর ঘরে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মানুষ ভয়ংকর আতঙ্কে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

ইতালি সরকার করোনা মোকাবেলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। যার ফলে গতকালের চিত্রের চেয়ে আজকের চিত্রটি ভিন্ন। সেখানে আগের তুলনায় মৃতের সংখ্যা ও আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমে এসেছে। সরকার সেখানে জরুরি অবস্থা অব্যাহত রেখেছে। চলাফেরাও সীমিত করা হয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে কোন্তি করোনা সংকট নিরসনে বিভিন্ন পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছেন। প্রতিদিন জনগণকে সচেতন ও মনোবল বৃদ্ধি করতে ভাষণ দিচ্ছেন। দেশের জনগণের আর্থিক সমস্যা মেটাতে ভিন্ন ভিন্ন খাতে বরাদ্দ দিচ্ছেন।

ইউরোপে এখন পর্যন্ত রেকর্ড সংখ্যক মৃত্যুর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় শহর লম্বার্ডিয়ায়। করোনাভাইরাসে কমপক্ষে ১৮ জন চিকিৎসক মারা গেছেন দেশটিতে।

প্রবাসীরা দেশে ফিরে থানায় না জানালে তাদের বিরু’দ্ধে আইনি ব্যব’স্থা গ্রহণ করা হবে

প্রবাসীরা দেশে ফিরে থানায় না জানালে তাদের বিরু’দ্ধে আইনি ব্য’বস্থা গ্র’হণ করা হবে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) পু‌লিশ হে’ড‌কো’য়ার্টার্স থেকে বিষয়টি নি’শ্চিত করা হয়েছে।১ মার্চ ২০২০ থেকে যারা দে’শে ফি’রেছেন। সকলেরই পাসপো’র্টের দেওয়া ঠি’কানা ব্য’তীত অন্য কোথাও অ’বস্থান করলে সেটি নিকট’স্থ থানায় জা’নানোর অ’নুরোধ করা হয়েছে। যদি কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি এটি না করেন তাহলে তাদের বিরু’দ্ধে আইনি ব্যব’স্থা গ্রহ’ণ করা হবে।

এরআগে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) করোনা প’রিস্থিতি মো’কাবিলায় সারা দেশে আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত গণপ’রিবহন ব’ন্ধ ঘো’ষণা করা হয়েছে। সকালে মন্ত্রণালয় থেকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক ভিডিও বা’র্তায় এ কথা জানান।সরকার দেশবাসী জনগণ যাত্রীসাধারণ মালিক শ্র’মিকসহ সংশ্লি’ষ্ট সকলের জ্ঞা’তার্থে জা’নাচ্ছে যে, ট্রাক, কা’ভার্ডভ্যান, ওষুধ, জ’রুরি সেবা, জ্বা’লানি, প’চ’নশীল পণ্য পরিবহন-এ নি’ষেধা’জ্ঞার বাইরে থাকবে। প’ণ্যবাহি যানবাহনে কোনো যাত্রী পরিবহন করা যাবে না।

এরআগে, করোনার কারণে সারা দেশে যাত্রীবাহী নৌযান চ’লাচল ব’ন্ধ ঘো’ষণা করেছে বাংলাদেশ অ’ভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন ক’র্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেল থেকে এ সিদ্ধা’ন্ত কা’র্যকর হবে বলে জা’নিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া বাংলাদেশের সব লোকাল ও মেইল ট্রেন সী’মিত আ’কারে চ’লবে বলে জানায় রেল ক’র্তৃপক্ষ। সোমবার (২৪ মার্চ) সকালে এমন ঘো’ষণা দেওয়া হয়েছে। ২৬ মার্চ থেকে পরবর্তী ঘো’ষণা না দেওয়া পর্যন্ত সব প্রকার ট্রে’ন সী’মিত আ’কারে চলবে।

রোববার (২২ মার্চ) দেশের সুপারমার্কেটগুলোসহ সব দোকান ব’ন্ধের ঘো’ষণা দেওয়া হয়। দোকান মালিক সমি’তির প’ক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২৫ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত দোকানগুলো ব’ন্ধ থাকবে। তবে, কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান এবং নি’ত্যপ্র’য়োজনীয় পণ্যের দোকান খো’লা থাকবে।এর আগে দুপুরে আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা স্থ’গিত করার ঘোষণা দেয়া হয়। আগামী এপ্রিল মাসের প্রথমদিকে পরীক্ষার নতুন রুটিন জা’নানো হবে।

রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসং’যো’গ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।বোবরার (২২ মার্চ) করোনা প’রিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত ব্রি’ফিং হবে না, সকাল থেকে এ’মনটাই জা’নিয়েছিল আইইডিসিআর। তবে, দুপুর দেড়টায় হঠাৎ খবর দেয়া হলো, দুই ঘণ্টা পরেই ব্রিফিং। এতে দেশে নতুন করে তিনজন করোনা রোগী শ’না’ক্তের কথা জানানো হয়।বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে আইইডিসিআর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা

জানান, গত ২৪ ঘণ্টা দেশে নতুন করে ৩ জনের শ’রীরে ক’রোনা শনা’ক্ত হয়েছে। সব মি’লিয়ে ২৭ জন। নতুন করে আর কেউ মা’রা যাননি। তবে আ’ক্রা’ন্তদের মধ্যে আরো ৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফি’রেছেন বলেও জানালেন তিনি। সব মি’লিয়ে ‘সু’স্থ হয়ে ফি’রলেন ৫ জন। অর্থাৎ বর্তমানে ২০ জন করোনা রো’গী আছে বাংলাদেশে।এদিন, মা’ঝপথে ব্রিফিংয়ে যোগ দেন স্বা’স্থ্য অ’ধিদফতরের মহাপরিচালক। নতুন করে হিসাব নিকাশ করে জানান বর্তমানে ১৩ হাজার কি’ট ম’জুত আছে।

নিশ্চই আল্লাহতায়ালাই রোগ-বা’লাই থেকে আরোগ্য দান করেন

মহান আল্লাহতায়ালা মাঝে মধ্যে রোগ-বালাই দিয়ে বান্দার ইমানের দৃঢ়তা পরীক্ষা করে থাকেন। তিনি দেখতে চান, বিপদ-আপদকালীন সময়ে তাঁর বান্দাদের মধ্যে কে বা কারা, তাঁর ওপর অবিচল আস্থা বা বিশ্বাস রেখে, ধৈর্যের সঙ্গে সামনের দিকে এগিয়েছে।

কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলারির স্বল্পতার মাধ্যমে’ (সূরা বাকারা-১৫৫)।

‘আর ভালো এবং মন্দ দ্বারা আমি তোমাদের পরীক্ষা করে থাকি’ (সূরা আম্বিয়া-৩৫)। মানুষের ভালো-মন্দ উভয়ের বিষয়ে আল্লাহতায়ালা সমভাবে ক্ষমতাবান। আমরা অসুস্থ হলে, তিনিই আমাদের সুস্থতা দান করেন। রোগ-ব্যাধি থেকে আরোগ্য লাভের ক্ষেত্রে চিকিৎসক শুধু চেষ্টা করতে পারেন।

মানুষ একে অপরের জন্য কেবল দোয়া করতে পারে। আরোগ্য দানের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আল্লাহতায়ালার দয়ার ওপর নির্ভর করে। আল্লাহর সাহায্য বা দয়া ব্যতীত কঠিন রোগ-ব্যাধি থেকে কারও আরোগ্য লাভ করা সম্ভব নয়।

তিনি যদি কারও ওপর আজাব গজব দান করেন, কেউ তা প্রতিরোধ করতে পারবে না। সৃষ্টি জগতের সব কিছুই তাঁর ইচ্ছার অধীন। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আর যদি আল্লাহ তোমাকে কোনো দুর্দশা স্পর্শ করেন, তবে তিনি ছাড়া তা দূরকারী কেউ নেই।

আর যদি কোনো কল্যাণ দ্বারা স্পর্শ করেন তবে তিনিই তো সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আর তিনিই তাঁর বান্দাদের ওপর ক্ষমতাবান’ (সূরা আনআ’ম-১৭-১৮)। ‘কে আছে অসহায় ও বিপন্নের ডাকে সাড়া দেয় যখন সে ডাকে এবং কষ্ট ও বিপদ দূরীভূত করে দেয়?’ (সূরা নামল-৬২)। আল্লাহ ছাড়া যেমন, মানুষের কোনো সাহায্যকারী নেই।

তেমনি দুনিয়া এমন কোনো রোগ নেই, যে রোগের ওষুধ বা প্রতিষেধক সম্পর্কে আল্লাহ মানুষকে জ্ঞান দান করেন নাই। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহতায়ালা এমন কোনো রোগ অবতীর্ণ করেননি।

যার নিরাময়ের উপকরণ তিনি সৃষ্টি করেননি’ (বোখারি-৫২৭৬)। যা কিছু মানুষের জন্য কল্যাণকর, আল্লাহতায়ালা বান্দাদের তা দান করে থাকেন। আল্লাহতায়ালা রোগ-বালাইর মধ্যেও মানুষের জন্য কল্যাণ রেখেছেন। দুনিয়াতে আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, সবকিছুই মানুষের উপকারার্থে।

এ জন্য পানি, বৃক্ষ-লতা, রোদ-বৃষ্টি ও ফলফলারি থেকে শুরু করে সবকিছুর মাঝেই ঔষধি গুণ ক্ষমতা রয়েছে। যখন মানুষের মধ্যে বালা-মুসিবতের আগমন ঘটে। তখন আল্লাহতায়ালা বালা-মুসিবতের পাশাপাশি বান্দার জন্য কল্যাণও পাঠিয়ে দেন।

যখনই আমাদের কোনো রোগব্যাধি আক্রমণ করবে, তখন কঠিন ইস্পাতের ন্যায় অন্তরে আল্লাহর রহমতের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রেখে, ধৈর্যের সঙ্গে আল্লাহর কাছে আরোগ্য লাভের জন্য সাহায্য চাইতে হবে।

অতীত জীবনের ভুল-ত্রুটির জন্য বেশি বেশি তওবা ইস্তেগফার পড়তে হবে। তাহলে আল্লাহ অবশ্যই কঠিন রোগ-বিমারের শেফা দান করবেন। আল্লাহতায়ালা সবাইকে সুস্থ ও সুন্দর জীবন দান করুক। আমিন।

সৌদি প্রবাসীরা কারফিউ না মানলে দেশে পাঠানো হবে

সৌদি আরবে সোমবার( ২৩ মার্চ) সন্ধ্যা হতে পরবর্তী ২১ দিনের জন্য কারফিউ তথা সান্ধ্য আইন জারি করা হয়েছে। নির্দেশনা না মানলে জরিমানাসহ কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া আইন অমান্য করলে প্রবাসী কর্মীদের দেশে পাঠিয়ে দেয়াও হতে পারে বলে জানা গেছে।

সান্ধ্য আইন নিয়ে এই নির্দেশনার ফলে সন্ধ্যা সাতটা হতে সকাল ছয়টা পর্যন্ত বাইরে বের হওয়া নিষিদ্ধ থাকবে। আইন কার্যকরের জন্য পুরো সৌদিতে বিপুল সংখ্যক আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে মর্মে জানিয়েছে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এই সময়ে ঘরের বাইরে বের হলে প্রথমবারের জন্য ১০ হাজার রিয়াল জরিমানা করা হবে। পুনরায় আইন ভঙ্গের কারণে জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণ হবে, এরপরেও যদি কেউ আইন অমান্য করে বের হয় তাহলে বিশ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হবে। এছাড়া আইন অমান্যের অপরাধে বিদেশী কর্মীদের ডিপোর্ট করাও হতে পারে।

এদিকে সৌদিআরবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ৫১ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর দিয়েছে সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় । এনিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫৬২ জনে। আক্রান্ত ৫১ জনের মধ্যে ১৮ জন রিয়াদে, ১২ জন মক্কায়। তবে নতুন কোন বাংলাদেশীর আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

প্রেমিকের সাথে আ’বাসিক হো’টেলে প্রবাসীর স্ত্রী, জেল-জ’রি’মানা

অ;নৈতিক কাজের অপ;রাধে নীলফামারীর সৈয়দপুরে আ;;বাসিক হোটেল সিলগালা করেছে
ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া এক যুবককে একমাসের কা;;রাদণ্ড ও একটি মেয়েকে জরি;;মানা করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরিমল কুমার সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।সূত্র জানায়, অ;;নৈতি;ক কাজের অভি;যোগে গোপ;ন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের বাসটার্মিনাল এলাকায় অবস্থিত একটি হোটেলে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এ সময় রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলার কেল্লাবাড়ি মুন্সিপাড়া এলাকার মৃ;;ত রমজান আলীর ছেলে সোহেল রানা ওরফে রওশন আলী (২৫) ও দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার এক প্রবাসীর স্ত্রী আটক করা হয়। তারা এক হাজার টাকায় রুম ভাড়া নিয়ে অ;;নৈতিক কাজের কথা স্বীকার করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সোহেল রানাকে একমাসের কারাদণ্ড ও মেয়েটিকে দুই হাজার টাকা জরি;;মানা করা হয়।মুঠোফোনে তাদের পরিচয় হয়। এরই সূত্র ধরে তারা সৈয়দপুরে আসে দেখা করার জন্য।এসময় সোহেল তার প্রেমিকা এক সন্তানের জননী ওই গৃহবধূকে নিয়ে সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ফাইভ স্টার আবাসিক হোটেলে নিয়ে যায়।

তারা সেখানে রুম বুুকিং নিয়ে অবস্থান করার সময় স্থানীয়রা বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরিমল কুমারকে জানালে তিনি তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌছে প্রেমিক-প্রেমিকাকে হাতে নাতে আটক করে তার কার্যালয়ে নিয়ে আসেন।বিষয়টি নিশ্চিত করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিমল কুমার সরকার বলেন,দণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল রমজান আলীর ছেলে এবং মেয়েটি প্রবাসীর স্ত্রী। এ ঘটনায় হোটেলটি সিলগালা করে দেওয়ায় হয় বলে জানান তিনি।

দক্ষিন আফ্রিকায় স‘ন্ত্রাসীদের গু‘লিতে ফেনীর দুলাল নি‘হ‘ত

দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গু;;লিতে দুলাল নামে এক বাংলাদেশি নি;হ;ত হয়েছেন। বুধবার
দেশটির কুইন্সটাউন শহরে এ ঘটনা ঘটে। নি;হ;ত দুলাল ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার বাসিন্দা। তার মৃ;;ত্যুর খবর পেয়ে স্বজনের কান্নায় আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে।জানা যায়, বুধবার রাতে আফ্রিকার কুইন্সটাউন শহরে নিজ দোকানে অজ্ঞাতনামা ২-৩ জন সন্ত্রা;সী প্রবেশ করে মালা;মাল লুট করতে থাকে। বাধা দিলে স;;ন্ত্রাসীরা মাথায় গু;;লি করে
মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়। আহতের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে র;;ক্তাক্ত অবস্থায়
হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃ‘;ত ঘোষণা করে।

নিহত দুলালের এক ছেলে এক মেয়ে রয়েছে।নি;হ;তের স্বজনরা জানায়, ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে ভিটেমাটি বিক্রি করে আফ্রিকায় পাড়ি জমান উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের হীরাপুর গ্রামের মজিব মুন্সি বাড়ির মালেক সর্দারের ছেলে দুলাল। প্রথমে অন্যের দোকানে চাকরি করেন তিনি। পরে নিজেই ব্যবসা শুরু করেন কুইন্সটাউন শহর এলাকায়।দুলালের বাবা মালেক সর্দার বলেন, ছেলেকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছি আমরা। দুলালের স্ত্রী ও দুই সন্তান কি নিয়ে বাঁচবে তাই ভাবছি।দাগনভূঞা থানা পুলিশের ওসি মো. আসলাম সিকদার বলেন, অফ্রিকায় সন্ত্রা;;সীদের গু;;লিতে ফেনীর এক ব্যক্তির মৃ;;ত্যুর খবর পেয়েছি।

অন্তঃসত্বা বুবলি এখন আমেরিকায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন তার বড় বোন

এ সময়ের অন্যতম চিত্রনায়িকা বুবলীকে নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। ক্যারিয়ারের শুরু
থেকেই এই নায়িকা শাকিব খানের স”ঙ্গে প্রে’মের গু’ঞ্জনে রয়েছেন। তবে বি’ষয়টি নিয়ে কখনো মুখ খোলেননি শাকিব-বুবলী কেউই।সম্প্রতি শাকিব-বুবলী অ’ভিনীত ‘বীর’ ছবিটি মুক্তি পায়। কিন্তু ছবির প্রচারণার সময় দেখা যায়নি তাকে। গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টার পরেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ ব্যাপারে বুবলীর বড় বোন ও সংগীতশিল্পী নাজনীন মিমি একটি গণমাধ্যমে বলেন, আমি কয়েকদিন আগে সি”ঙ্গাপুর থেকে এসেছি। বুবলী দেশে নেই। আমি সি”ঙ্গাপুর যাওয়ার সময় বুবলী আমেরিকায় যাওয়ার কথা আমায় বলেছিল। তাই আমা’র জানামতে, বুবলী বর্তমানে আমেরিকায় আছেন।আমেরিকা থেকে লন্ডন হয়ে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে তার। ঘুরতেই দেশের বাইরে গেছে বুবলী। এটা নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় শাকিব-বুবলীকে ঘিরে নানা রং মাখানোর সংবাদ দেখছি। তবে এটা একদমই কাম্য না। কারণ শাকিব-বুবলীর রসায়ন নিয়ে অনেক সংবাদ আগেও দেখেছি।

আর এখন দুজনের স’ম্পর্ক নিয়ে যা শুনছি এমন কিছু হলে সেটা শাকিব কিংবা বুবলীই সকলকে জানাবে।এর আগে ১৮ ফেব্রুয়ারি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশন খবর প্রচার করেছে, শাকিব খানের সাবেক স্ত্রী’ অ’পু বিশ্বা’সের পথে হাঁটছেন বুবলী। শুধু তাই নয়, ২৫ হাজার মা’র্কিন ডলার দিয়ে বুবলীকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছেন শাকিব খান।তিনি গ’র্ভবতী। এই খবর প্রচারের পর থেকেই নতুন আলোচনায় আছেন বুবলী। সূত্রঃ আরটিভি অনলাইন

একই পরিবারের চারজন নিখোঁজ নারায়ণগঞ্জে

নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় এক সপ্তাহ ধরে নি;খোঁ;জ রয়েছেন এক ব্যবসায়ী, তার স্ত্রী ও স্কুলপড়ুয়া দুই মেয়ে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বাসা থেকে মিরপুরে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বের হয়ে আর ফেরেননি।নি;খোঁ;জদের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া বাগে জান্নাত মহল্লায় সিরাজুল ইসলামের বাড়ির নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে সপরিবারে ভাড়া থাকত তোবারক হোসেন।তিনি শহরের বঙ্গবন্ধু রোডের লুৎফা টাওয়ার সংলগ্ন সড়কের ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানে গার্মেন্টের তৈরি পোশাক বেচাকেনা করতেন।

ওই ফ্ল্যাটে তোবারক হোসেনের সঙ্গে তার স্ত্রী মুক্তা, দুই মেয়ে ফারিয়া ও ফাহমিদা থাকতো।বড় মেয়ে ফারিয়া চাষাঢ়া বন্ধু স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ও ফাহমিদা একই স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী।তোবারক হোসেন মিরপুর ব্লক বি গাবতলী ১ম কলোনি জব্বার হাউজিং এলাকার রেজাউল হকের ছেলে।তার বাবা-মা বর্তমানে মিরপুর সেকশন ৬ এর কেন্দ্রীয় মসজিদের বিপরীতে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন।গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ব্যবসায়ী তোবারক, তার স্ত্রী মুক্তা ও দুই মেয়ে ফারিয়া ও ফাহমিদাকে নিয়ে মিরপুরে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে চাষাঢ়ার বাসা থেকে বের হন।

তবে এক সপ্তাহেও তারা ওই বাড়িতে ফেরেননি। তোবারক ও মুক্তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে।এ পরিস্থিতিতে মুক্তার মা মেহের বেগম বুধবার সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই সাব্বির ঘটনাস্থলে তদন্তে যান।এসআই সাব্বির জানান, কী কারণে সপরিবারে নিখোঁজ হয়েছে, সেটা এখনো স্পষ্ট নয়। সাধারণ ডায়েরি করার পর নিখোঁজের ঘটনার তদন্ত চলছে।